স্বপ্ন
অরিত্র ভূঞ্যা
হকচকিয়ে উঠে বসলো অভীক, পাগলের মত করে হাত-পা ছুঁড়ে খাট এর আশেপাশে কিছু একটা খোঁজার চেষ্টা করছিল সে | পাস থেকে আমি বলে উঠলাম কিরে অভীক? কি খুজছিস অমন পাগলের মত করে? অভীক কিছুটা অবাক আর অনেকটা হতাশাগ্রস্ত সুরে বলে উঠলো মঞ্জরি! মঞ্জরি কোথায়? ওকে তো দেখছি না | আমি বললাম, আরে পাগল মঞ্জরি কোথা থেকে আসবে এখানে? তুই বোধহয় স্বপ্ন দেখছিলি মঞ্জরি কে নিয়ে | আমি এসে দেখি ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করে কি যেন একটা বলছিলি| তাই, তোকে ডেকে তুললাম | অভীক হতাশ হয়ে বলল, এবারেরটাও স্বপ্ন ছিল? আমি বললাম, আরে ছাড় না, আর কতদিন এইভাবে স্বপ্ন দেখবি ফেয়ারওয়েল স্কুলের শেষ দিন, আজ ই মঞ্জরিকে বলে দে তোর মনের কথা | অভীক বলল, হ্যাঁ ভাই, ঠিক ই বলেছিস আজই বলবো ওকে, আমার মনের কথা |
এই যা , গল্প করতে করতে আপনাদের তো আমার পরিচয়টাই বলতে ভুলে গেছিলাম | যাকগে বাদ দিন, মনে যখন পড়েছে তখন পরিচয় পর্ব টা এখনই সেরে ফেলা যাক | হ্যাঁ, আমি হলাম অমল, অভিকের ছোটবেলাকার বন্ধু | ছোটবেলায় আমি আর অভিক একই হোস্টেলে থাকতাম, পঞ্চম শ্রেণী থেকেই একই স্কুলে পড়াশোনা করেছি দুজনেই | না, মঞ্জরি তখনো আসেনি এই স্কুলে | অভিক প্রথম বার মঞ্জরিকে দেখেছিল একাদশ শ্রেণিতে পুনরভর্তি হওয়ার ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে | দশম শ্রেণি অবধি মঞ্জরি পড়াশোনা করেছে পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামের স্কুলে | মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করায়, তার বাবা তাকে নিয়ে এসেছিল আমাদের স্কুলে ভর্তি করাতে | হেড স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে সেদিন একটু ভীত দেখাচ্ছিলো মঞ্জরিকে | মঞ্জরি হয়ে প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল ওর বাবাই | আর সেই দিন প্রথম দেখাতেই অভিকের মনে সহজ- সরল গ্রাম থেকে আসা মঞ্জরির প্রতি কেমন একটা ভালোলাগা তৈরী হয়ে গিয়েছিল | তারপর, এই ভালোলাগা পরিবর্তিত হয় বন্ধুত্বে, আর মনে মনে অভিক মঞ্জরি কে ভালো ও বেশে ফেলেছিল | তবে, আজ বলবো, কাল বলবো, করে করে, কবে যে দু- দুটো বছর কেটে গেল তা বুঝতে পা পারেনি অভিক | আজ আমাদের ফেয়ারওয়েল, আজকের পর আর হয়তো কোনোদিন দেখা হবে না আমাদের | তাই, আজ না ব বললে আর কোনোদিনই হয়তো বলা হয়ে উঠবে না অভিকের | তাই, অভিক আজ ঠিক করে নিয়েছে আজ সে বলবেই |
অভিক দাঁড়িয়ে রয়েছে আনমনা হয়ে, পেছোন থেকে আমি অভিকের কাঁধে একটা টোকা দিয়ে, জিজ্ঞেস করলাম, কি দেখছিস অমন আনমনা হয়ে? মঞ্জরীর দিকে ইশারা করে অভিক বলল, দেখ, কি সুন্দর লাগছে না আজ মঞ্জরি কে? আমি বললাম, হ্যাঁ, তা তো লাগছে বটেই, কিন্তু তুই ওকে প্রপোজ করতে না গিয়ে, গাধার মত এখানে দাঁড়িয়ে কেন? হ্যাঁ, যাচ্ছি, বলেই অভিক জ্যাকেটের পকেটের আড়ালে গোলাপটাকে লুকিয়ে রেখে মঞ্জরি র দিকে এগিয়ে গেল | অভিক কে দেখে, উৎসাহিত হয়ে মঞ্জরি বলে উঠল, আরে! অভিক, আয় আয়, আজকের পর তো আর হয়তো দেখাই হবে না | অভীক একটু ভয়, আর একটু সংকোচ মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করল তোকে একটা কথা বলব মঞ্জরি | মঞ্জরি বলল, হ্যাঁ, বল না, জিজ্ঞেস করার কি আছে? অভিক তার বুক পকেট থেকে গোলাপটা বের করে, প্রপোজ করার স্টাইলএ, হাঁটু গেড়ে বসে বলল, মঞ্জরি আমি তোকে ভালোবাসি | কিন্তু উল্টো দিক থেকে আমিও তোকে ভালোবাসি অভিক এর বদলে অভিক যেনো শুনলো এই গান্ডু, কি আল ফাল বকছিস? ওঠ, তাড়াতাড়ি | চোখেমুখে জলের ছিটে খেয়ে, খাটের উপরে উঠে বসলো অভিক | উঠেই, চোখের সামনে, মঞ্জরির বদলে দেখতে পেল আমাকে, আর বলে উঠলো, আরে, অমল তুই এসেছিস, কই জানালি না তো আসবি বলে? আমি বললাম জানালে হয়ত আজ এই দৃশ্যটা দেখতে পেতাম না, তাই না জানিয়েই চলে এলাম সারপ্রাইজ দিতে | হ্যাঁ, এখন অভিক আর সেই দ্বাদশ শ্রেণীর সদ্য প্রেমে পড়া অভিক নেই | অভিক এখন একটা ছোট চাকরি করে বিয়ে ও হয়েছে কয়েকদিন আগে, কিন্তু , আজও অভিক স্বপ্ন দেখে মঞ্জরিকে নিয়ে | আর, অভিক কে যখন জিজ্ঞেস করলাম তুই যদি এতই ভালবাসিস মঞ্জরি কে তাহলে ওকে বললি না কেন | অভিক বলল বন্ধুত্ব হারিয়ে যাওয়ার ভয়এ ভালোবাসার কথাটা বলতে পারিনি সেদিন, তবে আজ মনে হচ্ছে কিছু সপ্ন, সপ্ন হিসেবেই ভালো, সব স্বপ্ন বাস্তব নাই বা হল| আমিও, ভেবে দেখলাম সত্যিই হয়তো অভিকের ভালোবাসাটা বাস্তবে পরিণতি পায়নি কিন্তু বাস্তব পরিণতি পায়নি বলেই অভিক আজও মঞ্জরিকে বিভিন্ন উপায় প্রপোজ করার স্বপ্ন দেখে |
সমাপ্ত
Sera 💯
ReplyDeleteSera😂❤️❤️
ReplyDelete